Hepar sulph
ঔষধ পরিচয়, নরেন্দ বন্দোপাধ্যায় (হোমিওপ্যাথি মেটেরিয়া মেডিকা)
শীতার্ততা ও স্পর্শকাতরতা।
হিপার রোগী অত্যন্ত শীতার্ত হয় এবং এত শীতার্ত যে তাহার হাড়ের মধ্যেও সে শীত অনুভব করিতে থাকে। ঠাণ্ডা বাতাস সে মোটেই সহ্য করিতে পারে না, ঠাণ্ডায় তাহার সকল যন্ত্রণার বৃদ্ধি হয়। শীতকালে ঘরের সমস্ত দরজা, জানালা বন্ধ করিয়া দিয়া আপাদমস্তক আবৃত করিয়া থাকিতে সে ভালবাসে। এমন কি ঘরের মধ্যে যদি কোথাও কোন ছিদ্র থাকে বা দরজার ফাঁক দিয়া বা জানালার ফাঁক দিয়া যদি সামান্য বাতাসও ঘরে প্রবেশ করিতে থাকে তাহা হইলেও সে অস্থির হইয়া পড়ে। এইজন্য হিপার রোগী অনেক সময় ঘরের নর্দমা বা ছিদ্রপথে এবং দরজা বা জানালার ফাঁকে কাগজ মারিয়া দেয়, উদ্দেশ্য—বাতাস বন্ধ করা। অতএব আশা করি হিপার যে কিরূপ শীতার্ত তাহা আপনারা বুঝিতে পারিয়াছেন। সর্বদা আপাদমস্তক আবৃত করিয়া থাকিতে চায়। এবং যে ঘরে সে থাকে সে ঘরের দরজা-জানালা ত বন্ধ করিয়া দেয়ই, তাহা ছাড়া ঘরের কোন ছিদ্রপথ দিয়া বাতাস আসিবার সম্ভাবনা থাকিলেও তাহা রুদ্ধ করিয়া দেয়।
স্পর্শকাতরতাও ঠিক এইরূপ। মানসিক স্পর্শকাতরতায় দেখা যায় সে অত্যন্ত ক্রুদ্ধ-স্বভাব। অল্পেই রাগিয়া ওঠে এবং সময় সময় এত রাগিয়া ওঠে যে খুন করিয়াও ফেলিতে পারে। মাতা হইয়াও সন্তানকে আগুনে ফেলিয়া দিতে পারে। বন্ধু হইয়াও বন্ধুর বুকে ছুরি বসাইয়া দেয়, বাড়িতে আগুন লাগাইয়া দেয়। কাহারও কোন প্রতিবাদ সহ্য করিতে পারে না। শারীরিক স্পর্শকাতরতায় দেখা দেয় যে বেদনাযুক্ত স্থানে কোনরূপ স্পর্শ সহ্য করিতে পারে না, সামান্য বেদনাতেও অত্যন্ত কাতর হইয়া পড়ে। একটুও নড়া-চড়া করিতে চাহে না। এমন কি তাহার বেদনা বা যন্ত্রণার চিকিৎসা করাইবার জন্য সে কোন চিকিৎসকের কাছেও যাইতে চাহে না। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা যদি দেখে তাহার জন্য চিকিৎসক বাড়িতে আসিয়াছে তাহা হইলে ভয়ে তাহারা কাঁদিয়া ফেলে বা ক্রোধে উন্মত্ত হইয়া ওঠে। হিপারে স্পর্শকাতরতা এত অধিক যন্ত্রণায় মূর্ছিত হইয়া পড়ে।
ক্ষিপ্রতা ও হঠকারিতা।
হিপার রোগী সকল কাজই খুব তাড়াতাড়ি করে। ক্ষিপ্রগতিতে সে যেমন রাগিয়া ওঠে, উঠিতে বসিতে, চলিতে, বলিতেও ক্ষিপ্রগতি তাহার তেমন প্রবলভাবে প্রকাশ পায়। হঠকারিতা অতি ভীষণ-খুন করিতে বা ঘরে আগুন দিতে তাহার বাধে না। ক্রোধ—নিজের ক্রোধ, পরের উপর ক্রোধ প্রত্যেক স্থান, প্রত্যেক দ্রব্য, প্রত্যেক কথা, প্রত্যেক কাজ তাহাকে বিরক্ত বা ক্রুদ্ধ করিয়া তুলে যেন এ জগতে কেহ তাহার মনের মত নহে, কিছুতেই তাহার মন ওঠে না।
শীতার্ততা সম্বন্ধে পূর্বেই বলিয়াছি যে, সে এত শীতার্ত যে সে একটু ঠাণ্ডা সহ্য করিতে পারে না। সর্বদাই গরমে থাকিতে ভালবাসে। বেদনাযুক্ত স্থানেও সে গরম লাগাইতে ভালবাসে, উত্তাপ প্রয়োগ করিতে ভালবাসে। বেদনাযুক্ত স্থান যদিও অত্যন্ত স্পর্শকাতর হইয়া ওঠে কিন্তু উত্তাপ করিলে আরাম হয় বলিয়া অতি সন্তর্পণে সে উত্তাপ প্রয়োগ করিতে থাকে।
এইরূপ শীতার্ততা ও স্পর্শকাতরতা যেখানেই দেখিব সেইখানেই হিপারের কথা মনে করিতে পারি বটে এবং সেইখানেই হিপার ব্যবহার করিয়া উপকার লাভ করিতে পারি বটে, কিন্তু যাহারা উপদংশ রোগে জর্জরিত হইয়া অতিরিক্ত পরিমাণে পারদের অপব্যবহার করিয়াছে তাহারা প্রায়ই এইরূপ অবস্থা প্রাপ্ত হয় বলিয়া ঈদৃশক্ষেত্রে হিপার খুবই ফলপ্রদ।
টক, ঝাল প্রভৃতি উপদ্রব্য খাইবার ইচ্ছা।
হিপারের স্বভাবও যেমন উগ্র তেমনি উগ্র দ্রব্য খাইবার ইচ্ছা ও তাহার মধ্যে অত্যন্ত প্রবল, সেইজন্য অম্ল বা টক এবং ঝাল খাইতে সে খুব ভালবাসে।
হিপারের মল, মূত্র, ঘর্ম সমস্তই অত্যন্ত অম্লগন্ধ বা টকগন্ধযুক্ত (রিউম, ম্যাগ-কার্ব)।
হিপার ধর্ম অত্যন্ত অধিক। বিশেষত যেখানে পারদের অপব্যবহার ঘটিয়াছে সেখানে রোগী প্রায় দিবারাত্র ঘামিতে থাকে। তবে রাত্রে হিপারের সকল রোগ বৃদ্ধি পায় বলিয়া ঘর্ম রাত্রেই বৃদ্ধি পায়। ঘর্ম অত্যন্ত টকগন্ধযুক্ত। ঘর্মে কোন উপশম হয় না (ঘর্মে বৃদ্ধি— মার্কুরিয়াস)।
হিপারের মলও অত্যন্ত টকগন্ধযুক্ত।
আমাশয়ে কুন্থনের সহিত মলত্যাগ। (কোষ্ঠকাঠিন্য)।
ঘা বা ক্ষত হইতে পুঁজ নির্গত হয় তাহা অত্যন্ত দুর্গন্ধযুক্ত।
দুর্গন্ধযুক্ত প্রচুর শ্বেত-প্রদর, গনোরিয়া।
হিপারের আর একটি বিশিষ্ট লক্ষণ এই যে হিপার রোগী মল বা মূত্রত্যাগ করিতে বসিলে মল বা মূত্র সহজে ও সজোরে নির্গত হইতে চাহে না। এইজন্য মল এবং মূত্রত্যাগকালে অত্যন্ত বেগ দিয়ে হয় । মল মূত্র বেশ পরিষ্কারভাবেও নির্গত হয় না, মল বা মূত্রত্যাগের শেষে মনে হয় যেন একটু বাকি রহিয়া গেল। এবং সত্যই একটু বাকি থাকিয়া যায় বলিয়া মূত্রত্যাগের পর কাপড়ে ফোঁটা ফোঁটা মূত্র লাগিতে থাকে। এই লক্ষণটির সহিত অম্ল ও ঝাল খাইবার ইচ্ছা এবং স্পর্শকাতরতা ও শীতার্ততা বর্তমান থাকিলে সকল ক্ষেত্রে হিপার ব্যবহার করা যাইতে পারে। এই লক্ষণসমষ্টিই হিপারের সম্পূর্ণ পরিচয়। অতএব বালক হোক, বৃদ্ধ হোক যেখানে যে কোন রোগে ইহা বর্তমান থাকিবে সেখানেই হিপার সালফার ব্যবহার করা উচিত।
পারদের অপব্যবহার।
উপদংশের দোষ নষ্ট করিবার জন্য যাহারা অতিরিক্ত পরিমাণে পারদের অপব্যবহার করিয়া দেহ জর্জরিত করিয়া ফেলিয়াছে, অত্যন্ত শীতার্ত ও স্পর্শকাতর, মল-মূত্র সহজে নির্গত হইতে চাহে না, মল অত্যন্ত অম্লগন্ধযুক্ত তাহাদে এই অবস্থায় উপদংশজনিত যাবতীয় পীড়ায় বা পারদের অপব্যবহারজনিত যাবতীয় পীড়ায় হিপার ব্যবহার করা উচিত। পারদের অপব্যবহারজনিত কুফল নষ্ট করিতে হিপারের মত ঔষধ খুব কমই আছে। অতিরিক্ত ঘর্ম। নিম্ন অধরের মধ্যস্থল ফাটিয়া যায়।
হিপারের গায়ে প্রায়ই ঘা, পাঁচড়া দেখা যায়। সামান্য আঘাত বা আঁচড় লাগিলে তাহা পাকিয়া পুঁজযুক্ত হইয়া ওঠে এবং ক্ষত সহজে শুকাইতে চাহে না, গ্লাও বা গ্রন্থির বিবৃদ্ধি, অনেক সময় তাহা পাকিতেও চাহে না।
কাঁটা ফোটার মত ব্যথা।
ক্ষত মধ্যে প্রায়ই কাঁটার মত ব্যথা অনুভূত হয় অর্থাৎ হিপার রোগী মনে করে তাহার ক্ষতস্থানের মধ্যে যেন একটি কাঁটা ফুটিয়া আছে। এইরূপ কাঁটা ফোটার ন্যায় ব্যথা হিপারের একটি বিশিষ্ট লক্ষণ (মার্ক, সাইলি) । বেদনাযুক্ত স্থান বা ক্ষতস্থান অত্যন্ত স্পর্শকাতর হইয়া ওঠে একথা পূর্বে বলা হইয়াছে।
হিপারের সকল যন্ত্রণা রাত্রে বৃদ্ধি পায়, ঠাণ্ডায় বৃদ্ধি পায়। কিন্তু দাঁতের যন্ত্রণা গরম ঘরে বৃদ্ধি পায়।
পুঁজের উপর হিপারের ক্ষমতা খুব আছে বলিয়া ঘা, পাঁচড়া, ফোড়া, ক্ষত ইত্যাদিতে হিপার প্রায়ই ব্যবহৃত হয়। হিপারের ঘা বা ক্ষত অত্যন্ত পুঁজযুক্ত হইয়া ওঠে এবং তাহা অত্যন্ত স্পর্শকাতর হইয়া ওঠে। স্পর্শকাতরতা এত অধিক যে রোগী বেদনায় নড়া-চড়া করিতে চাহে না, বা বেদনাস্থানে সামান্য একটু স্পর্শও সহ্য করিতে পারে না; সঙ্গে সঙ্গে রোগীর মেজাজও স্পর্শকাতর হইয়া পড়ে, সামান্য কারণে অতিশয় ক্রোধ। কার্বাঙ্কল, আঙ্গুলহাড়া।
ফোড়া পাকিয়া পুঁজযুক্ত হইয়া উঠিলে বা ফোড়া ফাটিয়া গিয়া ক্রমাগত পুঁজ নির্গত হইতে থাকিলে হিপারের কথা মনে করা উচিত; উপদংশের নানাবিধ ক্ষত বিশেষত পারদের অপব্যবহারজনিত ক্ষত হিপারে প্রায়ই আরোগ্য হয়। তবে হিপারের লক্ষণসমষ্টি সম্বন্ধে পূর্বে যাহা বলিয়াছি সকল ক্ষেত্রেই তাহা বর্তমান থাকা চাই। আঙ্গুলহাড়া প্রদাহযুক্ত কাঁটা ফোটার মত ব্যথা, স্পর্শকাতরতা, শীত-কাতরতা, উগ্র স্বভাব ও উগ্র দ্রব্য খাইবার স্পৃহা।
আগুনের স্বপ্ন দেখে যেন ঘরে আগুন লাগিয়াছে। ক্রোধে অন্ধ হইয়া বা হঠকারিতাবশত ঘরে আগুন দেওয়াও হিপারের বৈশিষ্ট্য ।
কাশি, গলার মধ্যে যেন ধুলা জমিয়া গিয়াছে - ব্রঙ্কাইটিস, হুপিং কাশি। কাশিতে কাশিতে দম আটকাইয়া যায়।
বাত, চলিবার সময় কোমরে ব্যথা লাগিতে থাকে।
শোথ, পদদ্বয় ফুলিয়া ওঠে ও তৎসহ শ্বাসকষ্ট।
হিপারের রোগী অম্ল ও ঝাল খাইতে ভালবাসে।
পেটের যন্ত্রণা আহারে উপশম হয় (গ্রাফাইটিস)। কিন্তু কাশি, আহারে বৃদ্ধি পায়।
আধ-কপালে মাথাব্যথা, দক্ষিণদিকে ; প্রাতে বৃদ্ধি।
হিপারের খাওয়া, যাওয়া, কথা কওয়া সবই খুবই তাড়াতাড়ি। যেমন তাড়াতাড়ি সে রাগিয়া যায়, আহারে-বিহারেও তাহার তেমনি ক্ষিপ্ৰতা।
রোগী ঠাণ্ডা বাতাস সহ্য করিতে পারে না বলিয়া প্রায়ই সর্দি লাগে, বুকের মধ্যে ঘড়ঘড় শব্দ। হাঁপানির আক্রমণে রোগী উঠিয়া বসিয়া মাথা পশ্চাদভাগে হেলাইয়া শ্বাস গ্রহণ করিতে থাকে। রাত্রে সর্দি ওঠে না, কেবলমাত্র দিবাভাগেই সর্দি উঠিতে থাকে। কাশি, শীতের বাতাস লাগিয়া ক্রুপ বা সাংঘাতিক কাশি। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে সামান্য একটু হাওয়া লাগিবামাত্র কাশি, কাশিতে কাশিতে দম বন্ধ হইবার উপক্রম। চর্মরোগ চাপা পড়িয়া হাঁপানি (সোরিনাম)।
অ্যান্টিম-টার্ট এবং মার্ক-সলের পর প্রায়ই হিপার ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ অ্যান্টিম-টার্ট বা মার্ক-সল সম্পূর্ণভাবে কার্য করিতে না পারিলে প্রায়ই তাহাদের পর হিপার বেশ সাহায্য করে। ক্ষয়দোষযুক্ত রোগীকে সাবধানে হিপার দেওয়া উচিত। প্রতিষেধক—বেলেডোনা, সাইলি।
সদৃশ ঔষধাবলী ও পার্থক্য বিচার (ফোড়া, আঙ্গুল হাড়া, কার্বাঙ্কল)
মাথায় ফোড়া - Calcarea fluor, Merc sol, Silicea.
কানের মধ্যে ফোড়া - Calcarea fluor, Sulphur, Silicea.
বগলের মধ্যে ফোড়া - Calcarea sulph, Marc sol, Nitric acid, Rhus tox, Silicea.
যোনিদ্বারে ফোড়া - Merc sol, Sepia, Sulphur.
মলদ্বারে ফোড়া - Calcarea fluor, Calcarea sulph, Marc sol, Silicea.
স্তনে ফোড়া - Merc sol, Phosphoras, Sulphur, Phytolacca, Silicea.
সন্ধিস্থানে ফোড়া - Myristica, Stramonium, Thuja.
ফোড়া ক্রমাগত একটির পর একটি - Arnica, Sulphur, Silicea.
Hepar sulph - সর্বাঙ্গে প্রচুর ঘাম, ঘাম অত্যন্ত টকগন্ধযুক্ত, বেদনাযুক্ত স্থান অত্যান্ত স্পর্শকাতর। সূচিবিদ্ধ যন্ত্রণা, যন্ত্রণা রাত্রে বৃদ্ধি পায়। একটুও ঠাণ্ডা সহ্য করিতে পারে না। বেদনাযুক্ত স্থানে উত্তাপ প্রয়োগ ভালবাসে বটে কিন্তু এত বেশী স্পর্শকাতর যে কােহ তকে দেখিতে চাহিলেও দেখাইতে দেয় না এবং এত বেশী শীত-কাতর যে মুক্ত বাতাসও পছন্দ করে না।
Belladonna - প্রদাহের প্রথম অবস্থায় অর্থাৎ যখন পুঁজ জমে নাই, আক্রান্ত স্থান অত্যন্ত উত্তপ্ত, উজ্জ্বল লালবর্ণ, স্পর্শকাতর, দপদপ করিতে থাকে ও জালা করিতে থাকে। প্রদাহের কারণে জ্বর। ফোড়া বা কারাঙ্কলের প্রথমাবস্থা।
Natrum sulph - আঙুল হারা, ঠাণ্ডা প্রয়োগে উপশম (এপিস,ফ্ুওরিক-আযা, লিডাম, পালস।
[ ব্রাইওনিয়া এবং ফাইটোলাক্কার জন্য ব্রাইওনিয়া দেখুন। ]
Merc sol -ফোড়া পাকাইবার জন্য বা ফোড়া ফাটাইবার জন ইহা প্রায়ই ব্যবহৃত হয়। ফোড়া মোটেই উপযুক্ত নহে। মুখে দুর্দ্ধ ও জিহবা বড়, পুরু ও দাতের ছাপযুক্ত। রাত ও ঘর্ম অবস্থায় বৃদ্ধি। স্থচীবিদ্ধবৎ বেদনা, ডান পাশ চাপিয়া শুইতে পারে না।
Silicea - হাতে, পায়ে এবং মাথায় প্রচুর ঘাম, সুচীবিদ্ধবৎ বেদনা । বেদনাযুক্ত স্থানে উত্তাপ প্রয়োগ ভালবাসে, অত্যন্ত কোষ্ঠবন্ধ। ফোড়া ক্রমে নালী ঘায়ে পরিণত হইবার উপক্রম হইলে ইহা ব্যবহার করা উচিত। শীতকাতরতা, Merc sol এবং Hepar এর যেরূপ সর্বাঙ্গে ঘাম দেখা যায় সাইলিসিয়ায় কিন্ত সেরূপ দেখা যায় না। হাতের তালু, পায়ের তলা এবং মাঁথায় ঘামই Silicea এর বিশেষত্ব। অনেক সময় এই ঘাম বন্ধ হইয়া সাইলিলিয়ার রোগী কঠিনভাবে অসুস্থ হইয়া পড়ে। টিকার পর ফোড়া। আরও মনে রাখিবেন মাকুরিয়াসের ফোড়া স্পর্শশীতল, Silicea ও Hepar sulph এর ফোড়া উত্তপ্ত ।
Calcarea sulph - Hepar sulph এর সহিত ইহার সাদৃস্ খুব বেশী। কিন্তু Hepar যেমন মুক্ত বাতাস পছন্দ করে না ইহা তেমন নহে, তবে শীত-কাতর বটে। হিপারের মত বা পাইরোজেনের মত শরীরের যে কোন স্থান বা যে কোন গ্ল্যাণ্ড পাকিয়া যায়, হলুদ বর্ণের পুঁজ নির্গত হওয়া ইহার বিশেষত্ব। পুনরায় বলি হলুদ বর্ণের গাঢ় পুঁজ—মনে রাখিবেন। চোখে পুঁজ, কানে পুঁজ, লিউকোরিয়া,গনোরিয়া, অর্শ, ভগন্দর, ন্যাবা–শোথ, ক্ষয়কাশ, বৈকালীন জ্বর—শীত প্রথমে পদদ্বয়ে অনুভূত হয়। কোষ্ঠবদ্ধতা বা উদরাময়। দুগ্ধে অরুচি, মাংসে অরুচি, মানসিক পরিবর্তনশীলতা, উপযুক্ত ঔষধের ব্যর্থতা।
Rhus tox – ফোড়ার সহিত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কামড়ানি। ঠাণ্ডা সহ্য হয়। না। বেদনাযুক্ত স্থানে উত্তাপ প্রয়োগ পছন্দ করে। স্থানটি অত্যন্ত চুলকাইতে থাকে, বা কুটকুট করিতে থাকে এবং অত্যন্ত ফুলিয়া ওঠে। কার্বাঙ্কলেও ইহা ব্যবহৃত হয়। Arsenic Album প্রদাহযুক্ত স্থান অত্যন্ত জ্বালা করিতে থাকে, জ্বালা মধ্য রাত্রে বৃদ্ধি পায় এবং উত্তাপ প্রয়োগে উপশম হয়। ইহা কার্বাঞ্চলের একটি চমৎকার ঔষধ কিন্তু লক্ষণ বর্তমান থাকা চাই।
Lachesis — প্রদাহযুক্ত স্থান অত্যন্ত জ্বালা করিতে থাকে। নিদ্রা হইতে উঠিবার সময় জ্বালা বেশি বলিয়া মনে হয়। উত্তাপ প্রয়োগে আরামবোধ কিন্তু জ্বালা নিবারণ করিতে শীতল জলে স্নান করিতে বাধ্য হয়। আক্রান্ত স্থানটি নীল বা কালবর্ণ হয়। কার্বাঞ্চলে প্রায়ই ইহা ব্যবহৃত হয়। তবে ইহার লক্ষণ বর্তমান থাকা চাই। ল্যাকেসিস রোগী অত্যন্ত বাচাল হয়।
Phosphoras – রোগী অত্যন্ত শীর্ণকায়। তাহার বয়স অপেক্ষা সে অধিক বৃদ্ধি পায়, রোগী ঠাণ্ডা খাইতে এবং রসাল ফলমূল খাইতে ভালবাসে কিন্তু প্রদাহযুক্ত স্থানে উত্তাপ পছন্দ করে। সালফার-অপরিচ্ছন্ন-অপরিষ্কার স্বভাবের লোক। একসঙ্গে অনেক ফোড়া।
Acid flour - জ্বালা ঠাণ্ডা প্রয়োগে উপশম (এপিস, লিডাম, নেট্রাম সালফ)।
Tarentula cubensis - জ্বালা-যন্ত্রণায় রাত্রে পদচারণা করিয়া বেড়াইতে বাধ্য হয় ; শয্যা গ্রহণ করিয়া পা নাড়িতে থাকে, পা না নাড়িয়া থাকিতে পারে না। কার্বাঞ্চল দেখিতে নীলবর্ণ (ল্যাকেসিস)। উদরাময় ; প্রস্রাব বন্ধ হইয়া যায়। জ্বালা-যন্ত্রণায় চলিয়া বেড়াইতে বাধ্য হয়।
Crotalus horridus - কার্যাঙ্কলের চারিদিক নীলবর্ণ হইয়া ফুলিয়া ওঠে, কালবর্ণের তরল রক্তস্রাব, ন্যাবা।
Calendula - যেখানে কোন ঔষধের উপযুক্ত লক্ষণ পাওয়া যায় না, সেখানে ফোড়া বা কার্যাঙ্কল ইহার উচ্চশক্তি চমৎকার ফলপ্রদ। ফোড়া বা কার্যাঙ্কল পাকিয়া গেলে অনেকে বোরিক কটনের কমপ্রেস বা নেক দেওয়া পছন্দ করেন। কিন্তু এরূপক্ষেত্রে ক্যালেন্ডুলা টিনসার এক ভাগ গরম জল তিন ভাগের সহিত মিশাইয়া কমপ্রেসে খুব বেশি ফলপ্রদ হয়। কিন্তু অনেকে যেরূপ উত্তরে ক্যালেন্ডুলা এবং ভিতরে অন্য ঔষধ ব্যবস্থা করেন তেমন করা যুক্তিবিরুদ্ধ।
Anthracinum - প্রদাহযুক্ত স্থানে নিদারুণ জ্বালা, দুর্বলতা, রক্তস্রাব, হিমাঙ্গভাব। বিষাক্ত জীবের দংশনেও ইহা ফলপ্রদ। গ্যাংগ্রীন, প্লেগ, সেপটিক ফিবার, আঙ্গুল-হাড়া, দুষ্টব্রণ, ইরিসিপেলাস প্রভৃতি প্রদাহ তীব্র জ্বালাযুক্ত এবং দ্রুততর দুর্বলতা, ২৪ ঘন্টা বা ৪৮ ঘন্টার মধ্যে রোগীকে মৃত্যুমুখে ঠেলিয়া দেয়। নাক, মুখ বা জরায়ু হইতে কাল রক্তস্রাব। ক্ষতের জ্বালা রাত্রে বৃদ্ধি পায় (ল্যাকেসিস, হিপার, মার্ক-স.)। ক্ষত কাল বা নীলবর্ণ (ল্যাকে)। উত্তাপ প্রয়োগে উপশম।
Myristica - কেহ কেহ বলেন আঙ্গুলহাড়ায় ইহা অব্যর্থ। গ্রন্থি বা হাড়ের মধ্যে পুঁজসঞ্চার, প্রদাহ ইত্যাদি। কার্বাঙ্কল। শ্রীপদ বা গোদেরও মহৌষধ (আর্স) ভগন্দর।
