ম্যারাসমাস কী? | What is Marasmus?
ম্যারাসমাস হলো শরীরে প্রোটিন সংক্রান্ত অপুষ্টি। যে কেউ এ রোগে আক্রান্ত করতে পারে, তবে শিশুদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা যায়। এ রোগে আক্রান্ত রোগীর শরীরে ক্যালোরি, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের গুরুতর ঘাটতি দেখা দেয়। এশিয়া ও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশসমূহে এ রোগ বেশি দেখা যায়। সেখানকার জনগনের খাদ্যের অভাব থাকার প্রবণতা রয়েছে, যারফলে পর্যাপ্ত পুষ্টি পাওয়া যায় না। ম্যারাসমাস রোগের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য জানতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন।
ম্যারাসমাসের লক্ষণসমূহ | Symptoms of Marasmus
শিশুদের মধ্যে গুরুতর প্রোটিন ও ক্যালোরির অভাবের ফলে চর্বি ও পেশী ভর হ্রাস হতে পারে। ম্যারাসমাসের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো অপুষ্টির কারণে ওজন কমে যাওয়া। যদি ম্যারাসমাস দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা না করা হয় তাহলে ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা বা সংক্রমণের কারণে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি দেখা দিতে পারে:
- ওজন কমে যাওয়া
- শারিরীক বিকাশ থেমে যাওয়া
- ত্বক ও চোখে শুষ্কতা
- ভঙ্গুর চুল
- ডায়রিয়া
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া
- পেটের সংক্রমণ এবং ল্যাকটোজ অসহ্য শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ
- ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি এর অভাবের কারণে রিকেট রোগ
- আয়রনের ঘাটতির কারণে রক্তশূন্যতা
- প্রতিবন্ধী হওয়া, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতা
- নিম্ন রক্তচাপ বা হাইপোটেনশন
- শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়া বা হাইপোথার্মিয়া
- হৃদস্পন্দন ধীর হয়ে যাওয়া বা ব্র্যাডিকার্ডিয়া
খাদ্য ও পুষ্টির অভাব শরীর ও মন উভয়েরই ক্ষতির কারণ হতে পারে। গুরুতর ম্যারাসমাসযুক্ত শিশুদের ক্লান্ত ও বিরক্ত দেখায়। তাদের শক্তি এবং উৎসাহ সবসময় কম হয়, এই ধরনের শিশুরা প্রায়শই খিটখিটে, রুক্ষ মেজাজ ও খেলাধুলার প্রতি অনাগ্রহী হয়।
ম্যারাসমাসের কারণসমূহ | Causes of Marasmus
ম্যারাসমাস প্রধানত পুষ্টির ঘাটতির কারণে বা অপুষ্টির কারণে হয়ে থাকে। নিম্নে ম্যারাসমাসের ঝুঁকির কারণসমূহ উল্লেখ করা হলো:
নিম্নমানের খাবার: পুষ্টি সমৃদ্ধ ও সুষম খাদ্য দৈহিক বৃদ্ধির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে শিশুদের জন্য। খাদ্যে যদি প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব হয় তাহলে ম্যারাসমাস হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
খাদ্য সংকট: দারিদ্র্যতা এবং খাদ্যের অভাব রয়েছে এমন উন্নয়নশীল দেশগুলিতে ম্যারাসমাস বেশি দেখা যায়। এ অঞ্চলগুলিতে ঘনঘন দুর্ভিক্ষ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগও দেখা দেয়, যারফলে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়। এইসব এলাকায় বসবাসকারী শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ম্যারাসমাস হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
শিশু পর্যাপ্ত বুকের দুধ না পাওয়া: মায়ের দুধে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি থাকে যা শিশুদের বেড়ে উঠতে সাহায্য করে। যদি মায়েরা অপুষ্টিতে ভোগেন, তবে তারা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় তাদের শিশুদের পর্যাপ্ত দুধ খাওয়াতে অক্ষম হন। এটি শিশুদের প্রোটিন সংক্রান্ত অপুষ্টির সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।
সংক্রমণ ও রোগ: ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী ও অন্যান্য রোগজীবাণু দ্বারা সৃষ্ট সংক্রমণ এবং বিভিন্ন রোগের ফলেও ক্ষুধাহীনতা দেখা দিতে পারে। এরফলে প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবে ম্যারাসমাসের রোগ হতে পারে। এইচআইভি/এইডস, ম্যালেরিয়া, সিলিয়াক রোগ, অগ্ন্যাশয়ের সমস্যা ইত্যাদির ফলে ম্যারাসমাস হতে পারে।
অ্যানোরেক্সিয়া: পর্যাপ্ত খাবার আছে কিন্তু খাবার দেখলে যাদের বিরক্ত লাগে খেতে পারে না। তাদেরও ম্যারাসমাস হতে পারে।
ম্যারাসমাস এবং কোয়াশিওরকরের মধ্যে পার্থক্য | Difference Between Marasmus and Kwashiorkor
ম্যারাসমাসের মতো কোয়াশিওরকর হলো প্রোটিনের অভাবজনিত এক ধরনের অপুষ্টি। কোয়াশিওরকর প্রধানত এমন শিশুদের মধ্যে দেখা যায় যারা সবেমাত্র বুকের দুধ ছেড়েছে। সদ্য বুকের দুধ ছেড়েছে এমন শিশুদের ডায়েটে যদি প্রচুর কার্বোহাইড্রেট থাকে এবং খুব কম প্রোটিন থাকে তবে আপনার শিশুর কোয়াশিওরকর রোগ হতে পারে।
কোয়াশিওরকরের প্রধান লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:
শরীরে তরল পদার্থ জমে থাকার কারণে শোথ বা ফোলাভাব
মুখমণ্ডল ফুলে যাবে
থলথলে পেট
ত্বক, নখ এবং চুলের রোগ
ঠোঁটের কোনে ফাটল বা ব্যথা
শারিরীক বিকাশ ও বৃদ্ধি থেমে যাওয়া
শারীরিক শক্তির অভাব ও অলসতা
চিকিৎসকরা শোথ বা ফোলার লক্ষণ দেখে ম্যারাসমাস থেকে কোয়াশিওরকরকে আলাদা করতে পারেন। কিন্তু কিছু কিছু শিশুর উভয় লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এ অবস্থাকে ম্যারাসমিক কোয়াশিওরকর নামে পরিচিত।
মারাসমাস রোগ নির্ণয় | Diagnosis of Marasmus
আপনার ডাক্তার শারীরিকভাবে পরীক্ষা করে ম্যারাসমাস নির্ণয় করতে পারেন। তারা সাধারণত রোগীর উচ্চতা ও ওজন বয়সের সামঞ্জস্য কিনা তা পরীক্ষা করে নির্ণয় করতে পারেন। শিশুদের অপুষ্টি পরীক্ষা করার জন্য বাহুর ঘের পরিমাপ করা হয়।
রক্তের হিমোগ্লোবিন, রক্তের কোষের সংখ্যা, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ইত্যাদি নির্ণয় করার জন্য ল্যাব পরীক্ষা করতে হতে পারে। ম্যারাসমাস হতে পারে এমন কোনো সংক্রমণ বা রোগ আছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য এ পরীক্ষাসমুহ করা হয়।

