ইনফার্টিলিটিতে ভেরিকোসিলের ভূমিকা:
ভেরিকোসিল ইনফার্টিলিটির জন্য কীভাবে দায়ী?
- ভেরিকোসিলের কারণে অন্ডকোষের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যা শুক্রাণুর স্বাভাবিক উৎপাদন এবং কার্যকারিতা হ্রাস করে।
- ভেরিকোসিলের কারণে রক্ত জমে থাকায়, রক্তে টক্সিক পদার্থ বাড়িয়ে দেয়, যা শুক্রাণুর ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
- অন্ডকোষে রক্তের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় পুষ্টি এবং অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়, যা শুক্রাণুর মান নষ্ট করে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাইমারি ইনফার্টিলিটির ২৫%-৩৫% এবং সেকেন্ডারি ইনফার্টিলিটির ৫০%-৮০% ক্ষেত্রে ভেরিকোসিল একটি বড় ভূমিকা পালন করে।
ভেরিকোসিলের প্রধান লক্ষণগুলো :
- অণ্ডকোষে ভারীভাব বা টান টান অনুভূতি
- অণ্ডকোষ বা শুক্রাশয়ে ব্যথা/অস্বস্তি
- অণ্ডকোষ ঝুলে পড়া – সাধারণত এক পাশে (বেশিরভাগ সময় বাঁ পাশে) বেশি হয়।
- অণ্ডকোষের শিরার গুলো নাড়ীভুঁড়ির মতো পেঁচিয়ে থাকা – হাতে ধরলে অণ্ডকোষের শিরা গুলো নরম দড়ির মতো মোচড়ানো অনুভব হয়।
- গরমে বা কাজ করার পর উপসর্গ বেড়ে যায় – ঠান্ডা বা বিশ্রামে লক্ষণ গুলো কিছুটা কমে যায়।
- বন্ধ্যাত্বের সমস্যা (Infertility) অনেক সময় ভেরিকোসিল নীরবভাবে শরীরে সমস্যা তৈরি করে, যা রোগী বুঝতে পারেন না। তাই এটি নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
রোগ নির্ণয় (Diagnosis)
আল্ট্রাসাউন্ড: অন্ডকোষে ভেরিকোসিলের উপস্থিতি নির্ণয়ের জন্য আল্ট্রাসাউন্ড সবচেয়ে কার্যকর।
সিমেন অ্যানালাইসিস: শুক্রাণুর মান, সংখ্যা এবং গতিশীলতা বিশ্লেষণের জন্য এই পরীক্ষা করা হয়। এটি ইনফার্টিলিটির মূল কারণ নির্ধারণে সাহায্য করে।
চিকিৎসা এবং সমাধান
বর্তমান সময়ে পুরুষদের মধ্যে ইনফার্টিলিটি বা সন্তান উৎপাদনে অক্ষমতা একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণায় প্রমাণিত, পুরুষদের ইনফার্টিলিটির প্রায় ২৫% থেকে ৩৫% ক্ষেত্রে এবং সেকেন্ডারি ইনফার্টিলিটির ৫০% থেকে ৮০% ক্ষেত্রে ভেরিকোসিল মূল কারণ হিসেবে কাজ করে। ভেরিকোসিলের কারণে অণ্ডকোষের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, শুক্রাণুর মান ও সংখ্যা কমে যায় এবং ধীরে ধীরে সন্তান ধারণের ক্ষমতা হ্রাস পায়।
এ অবস্থায় রোগীরা অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন, কিন্তু সমাধান আছে - হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায়।
পুরুষদের অন্ডকোষের ভেরিকোসিল Varicocele যেকোন বয়সেই হতে পারে। তবে যথা সময়ে সঠিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিলে এই সমস্যা খুব তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে যায়। জেনে রাখা ভালো বহু রোগ রয়েছে যেগুলির কোন স্থায়ী এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নেই। ভেরিকোসিল হলো তেমনই একটি রোগ যার তেমন কোন এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নেই।
এলোপ্যাথিক ডাক্তাররা আপনাকে ফলোআপে রাখবে এবং কিছু পেইনকিলার খেতে দিবে যখন আপনার ভেরিকোসিল গ্রেড-৩ বা গ্রেড-৪ চলে যায় এবং আপনার রোগটি ক্রনিক ও জটিল আকার ধারণ করে তখন তারা আপনাকে সার্জারি করতে বলবে।
সার্জারি তে স্থায়ী ভাবে ভালো হয়ে গেলে আমি আপনাকে সার্জারি করতে পরামর্শ দিতাম কিন্তু ৮০% রুগীর ক্ষেত্রে ভেরিকোসিলটি ৫/৬ মাসের মধ্যে পুনরায় দেখা দেয় এবং তা আগের তুলনায় আরো জটিল আকারে।
সুতরাং ভেরিকোসিল রোগে আপনার হাতে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যতীত অল্টারনেটিভ কোনো অপশন নেই।
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় অণ্ডকোষের রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং অস্বাভাবিক তাপমাত্রা কমিয়ে আনে।
যা শুক্রাণুর মান, সংখ্যা ও গতি উন্নত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
সবচেয়ে বড় কথা, এটি নিরাপদ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধান।
ভেরিকোসিলে আক্রান্ত হলে বা সন্দেহ হলে দ্রুত একজন রেজিস্টার হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের শরণাপন্ন হন এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করুন।

