ইরিটেবল বাউয়েল সিন্ড্রোম IBS হলো অন্ত্রের দীর্ঘ মেয়াদী একটি ব্যাধি যা সাধারণত পেটের ব্যথা হিসেবে নিজেকে জানান দেয়। IBS রোগের জন্য এখনো কিছুকে একক ভাবে দায়ী করা যায়নি। সাধারণত ২০-৪০ বছরের মহিলাদের এবং মানসিক ভাবে অস্থির প্রকৃতির লোকদের মধ্যে আই,বি,এস এর প্রবণতা বেশী দেখা যায়।
পেটের নীচের অংশের যেকোনো একপাশে বা মাঝখানে ব্যথা, সেই সাথে ঘন ঘন নরম মলত্যাগ অথবা দীর্ঘ মেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য IBS রোগীদের অভিযোগের প্রথম তালিকায় থাকে। সাধারণত সকালের দিকে অথবা কোনো উত্তেজনাময় মুহুর্তে হঠাৎ করে মলত্যাগের চাপ অনুভব করা আই,বি,এস রোগীর একটি অতিপরিচিত উপসর্গ। এছাড়া পেট ভরা ভরা লাগা, পেটে ভুট ভাট শব্দ করা, অতিরিক্ত বায়ু (Flatus) ত্যাগ করা বা মলত্যাগের পর ও মলাশয়ে কিছু রয়ে গেছে এই অনুভূতি গুলোও আই,বি,এস রোগী প্রতিনিয়ত অনুভব করে থাকেন।
ঠিক কি কারণে IBS হয় তা এখনো জানা যায়নি। তবে এ রোগে আক্রান্ত রোগীদের বৃহদান্ত্রে কোনও ধরনের গাঠনিক ত্রুটি বা অসামঞ্জস্য দেখা যায় না। মনে করা হয় এটি বৃহদন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের বিশৃঙ্খলা। বৃহদন্ত্রের মাংসপেশির সংকোচন ও প্রসারণের ফলে সৃষ্ট যে চলাচল প্রক্রিয়া তাতে বিঘ্ন ঘটে এ রোগে। মানসিক চাপ, আবেগীয় সমস্যা, বিশেষ ধরণের কিছু খাবার ও পরিপাকতন্ত্রের স্থানীয় হরমোন Serotonin এর প্রভাবে এ সমস্যার সৃষ্টি হয় বলে ধারণা করা হয়। খাবারের পরিমাণও IBS এর রোগীদের অস্বস্তিতে ফেলে। এক সাথে বেশি পরিমাণ খাবার খাওয়া এ রোগীর যন্ত্রণা বাড়িয়ে দিতে পারে।
আই বি এস এর লক্ষণ:
- পেটে ব্যাথা, বিশেষ করে মোচড় দিয়ে বা কামড় দিয়ে ব্যাথা
- পেট ফাঁপা বা পেটে গ্যাস জমা হওয়া
- মলত্যাগের পরও অসম্পূর্ণ মল ত্যাগের অনুভূতি
- পাতলা পায়খানা
- কোষ্ঠকাঠিন্য
- পেটে অস্বস্তি ইত্যাদি
আই.বি.এস স্থায়ীভাবে নির্মূলকারী চিকিৎসা:
এই রোগের নির্দিষ্ট কারণ আজও নির্ণয় করতে না পারার কারণে এলোপ্যাথিতে এর নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই কারণ এর ঔষধ এলোপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা আজও আবিষ্কার করতে পারেননি, তারা এটিকে মানুষিক রোগ বলেই চালিয়ে দিয়ে পিঠ বাঁচানোর চেষ্টা করেন। আর সেই সাথে এর জন্য যে ট্রিটমেন্ট দিয়ে থাকেন সেটিও নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে থাকে অর্থাৎ আপনাকে এখানেও শান্তিতে থাকতে দিবে না। তাহলে কি এই রোগ থেকে মুক্তি নেই ? অবশ্যই এর থেকে আপনার মুক্তি রয়েছে। আপনাকে জানতে হবে পৃথিবীতে রয়েছে প্রায়ই দেড় শতাধিক চিকিৎসা পদ্ধতি। এলোপ্যাথিই একমাত্র চিকিৎসা পদ্ধতি নয়। কোন না কোন চিকিৎসা পদ্ধতিতে সেই রোগেরও স্থায়ী আরোগ্য রয়েছে যা এলোপ্যাথি করতে পারছে না।
সমগ্র বিশ্বে বর্তমানে কোন প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না করে Irritable Bowel Syndrome (IBS) নির্মূলের একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। কারণ হোমিওপ্যাথির প্রতিটি ঔষধেই রয়েছে রোগীর শারীরিক, মানুষিক, চারিত্রিক, স্বভাবগত এবং যে রোগে আক্রান্ত হয়েছে সেই রোগের সুনির্দিষ্ট লক্ষণ। আর তাই তো হোমিওপ্যাথি এত কার্যকর এবং স্থায়ী একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। আই.বি.এস এর ক্ষেত্রে একেক জনের ক্ষেত্রে একেক প্রকার লক্ষণ অর্থাৎ লক্ষণের ভিন্নতা থাকলেও অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারদের এই রোগ স্থায়ী ভাবে সারাতে মোটেও বেগ পেতে হয় না। তাই এই রোগে আক্রান্ত হলে অযথাই এলোপ্যাথির পেছনে ছুটাছুটি করে আপনার টাকা এবং সময় নষ্ট না করে রেজিস্টার্ড এবং অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন।
যদি কোন হোমিও ডাক্তারের চিকিৎসায় ফল না দেয় তাহলে ডাক্তার পরিবর্তন করুন। কারণ আপনার রোগ ভালো হচ্ছে না এর জন্য ঐ ডাক্তারের ঔষধ এবং ঔষধের পাওয়ার সিলেকশনে ভুল থাকতে পারে। এটা হোমিওপ্যাথির দোষ নয়। আর সব সময় অভিজ্ঞ এবং রেজিস্টার্ড হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়াই হলো অতি উত্তম।

