Hyoscyamus niger
ঔষধ পরিচয়, নরেন্দ বন্দোপাধ্যায় (হোমিওপ্যাথি মেটেরিয়া মেডিকা)
তন্দ্রাচ্ছন্ন (অর্ধনিদ্রিত অবস্থা, পাতলা ঘুম), প্রলাপ। ( অর্থহীন, উক্তি, যুক্তি ও সঙ্গতিহীন কথা।)
হাইওসিয়েমাসের রোগী রোগাক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে বা অনতিবিলম্বে এত দুর্বল হইয়া পড়ে যে, সে তন্দ্রাচ্ছন্নভাবে পড়িয়া থাকিতে বাধ্য হয়। জ্বর খুব বেশি নহে, অথচ তন্দ্রাচ্ছন্নতার এবং তন্দ্রাচ্ছন্নভাবে পড়িয়া সর্বদাই আবোল-তাবোল কত কি বকিয়া যাইতে থাকে বা নানাবিধ অঙ্গভঙ্গী করিতে থাকে। অবশ্য রোগের প্রথম অবস্থায় বা যতক্ষণ না সে একেবারে নিস্তেজ হইয়া পড়ে, ততক্ষণ আমরা তাহার মধ্যে মারিতে যাওয়া, কামড়াইতে চাওয়া, বিছানা হইতে লাফাইয়া পড়া ইত্যাদি প্রলাপের প্রচণ্ডতা লক্ষ্য করি; কিন্তু এরূপভাবে বেশিক্ষণ স্থায়ী হইতে পারে না, অনতিবিলম্বে সে তন্দ্রাচ্ছন্নভাবে পড়িয়া থাকিতে বাধ্য হয়। ব্রাইওনিয়া, ওপিয়াম এবং জেলসিমিয়ামেও তন্দ্রাচ্ছন্নভাব আছে; কিন্তু ব্রাইওনিয়া রোগী এইজন্য তন্দ্রাচ্ছন্নভাবে পড়িয়া থাকে যে, কোনরূপ নড়াচড়া করিতে গেলে, এমন কি চক্ষু মেলিয়া চাহিতে গেলেও তাহার সকল যন্ত্রণা বৃদ্ধি পায় এবং ওপিয়াম ও জেলসিমিয়ামে স্নায়বিক পক্ষাঘাতবশত রোগী জাগিয়া থাকিতে পারে না দেহ, মন যেন অসাড় হইয়া যায়। কিন্তু হাইওসিয়েমাসের কথা স্বতন্ত্র। হাইওসিয়েমাসের তন্দ্রাচ্ছন্নভাব মুমুর্ষু অবস্থার পূর্বাভাষমাত্র, জ্বর খুব প্রবল নহে অথচ তন্দ্রাচ্ছন্নভাব, আবার তন্দ্রাচ্ছন্নভাবে পড়িয়া রোগী চুপ করিয়াও থাকিতে পারে না, রোগের বিষক্রিয়ায় জর্জরিত হইয়া ক্ৰমাগত প্ৰলাপ বকিতে থাকে। ক্রমে তাহাও বন্ধ হইয়া আসে। রোগী তখন একান্ত তন্দ্রাচ্ছন্নভাবে পড়িয়া নীরবে বিছানা খুঁটিতে থাকে, শূন্যে কি যেন ধরিতে চায়। নিম্ন চোয়াল ঝুলিয়া পড়ে, বালিশ হইতে মাথা গড়াইয়া পড়ে। মল, মূত্র অসাড়ে নির্গত হইতে থাকে।
বেলেডোনা ও স্ট্র্যামোনিয়ামের মধ্যে প্রলাপের আতিশয্য পরিলক্ষিত হয় সত্য কিন্তু বেলেডোনার জ্বর যেরূপ আকস্মিক প্রবল হইয়া ওঠে, স্ট্র্যামোনিয়ামে তাহা হয় না এবং বেলেডোনার জ্বর স্বল্পবিরাম হইলেও তাহা কখনও সান্নিপাতিক বা টাইফয়েড অবস্থা প্রাপ্ত হয় না। ট্র্যামোনিয়ামে অবশ্য সান্নিপাতিক জ্বর আছে এবং প্রলাপের প্রচণ্ডতা আছে; কিন্তু হাইওসিয়েমাসের তন্দ্রাচ্ছন্নভাবের পরিবর্তে স্ট্র্যামোনিয়ামের উত্তেজনা এবং প্রলাপের প্রচণ্ডতা দেখিলে ভয় হইতে থাকে ক্ষণে ক্ষণে সে উঠিয়া বসে, দাঁতে দাঁতে ঘর্ষণ করিতে থাকে, বিস্ফারিত নেত্রে চাহিয়া দেখে, মারিতে চায়, কামড়াইতে চায়, উলঙ্গ হইয়া নাচিতে চায়, উচ্চহাস্যে ঘর প্রতিধ্বনিত করিয়া তুলে, আবার পরক্ষণেই অনুতাপ করিতে থাকে, প্রার্থনা করিতে থাকে। হাইওসিয়েমাসে এ সব আছে বটে, কিন্তু উগ্রতা নাই, উত্তেজনা নাই, প্রচণ্ডতা নাই । রোগের প্রথম অবস্থায় বা ক্ষণকালের জন্য সে উত্তেজিত হইয়া ওঠে, মারিতে চায়, কামড়াইতে চায়, ঔষধ খাইতে চাহে না মনে করে তাহাকে বিষ খাওয়াইয়া মারিয়া ফেলিবার চেষ্টা চলিতেছে, মনে করে তাহার বাড়িতেই নাই বা কল্পনাপ্রসূত দৃশ্যাবলীকে বাস্তব মনে করিয়া কখনও বা ভয়ে চিৎকার করিয়া উঠে, কখনও বা তাহাদের সহিত কথাবার্তা কহিতে থাকে বা নানাবিধ অঙ্গভঙ্গী করিতে থাকে ; কিন্তু অনতিবিলম্বে পুনরায় তন্দ্রাচ্ছন্নভাবে পড়িয়া থাকিতে বাধ্য হয় এবং তন্দ্রাচ্ছন্নভাবে পড়িয়া আপন মনে কত কি বকিয়া যাইতে থাকে। কথাবার্তার মধ্যে মল, মূত্র, জননেন্দ্রিয় সম্বন্ধে আলোচনাই বেশি। স্ট্র্যামোনিয়ামের রোগী ও জননেন্দ্রিয় প্রদর্শন করিতে থাকে। এবং অশ্লীল কথা কহিতে থাকে, অনুনয়-বিনয় করিতে থাকে, সঙ্গী পছন্দ করে, আলোক পছন্দ করে। হাইওসিয়েমাস আলোক চাহে না; এবং সঙ্গী বা আত্মীয়-পরিজনকে সন্দেহ করিতে থাকে, বুঝি তাহারা বিষ প্রয়োগে তাহাকে হত্যা করিবে। ধর্মভাব আছে বটে, কিন্তু কামভাবের তুলনায় তাহা নাই বলিলেই চলে সর্বদা উলঙ্গ থাকিবার ইচ্ছা, সর্বদাই জননেন্দ্রিয়ে হস্তক্ষেপ, অশ্লীল কথা, অশ্লীল গান, অশ্লীল ভঙ্গিমা। স্ট্র্যামোনিয়ামের অনুনয়-বিনয়, অনুতাপ, কবিতায় কথা বা বিভিন্ন ভাষায় কথা বলা এবং করতালি দেওয়া হাইওসিয়েমাসে নাই।
হাইওসিয়েমাসের রোগী অনেক সময় মনে করে যে সে বুঝি তাহার বাড়িতে নাই। এরূপ লক্ষণ ব্রাইওনিয়া ও ওপিয়ামেও আছে এবং ব্রাইওনিয়া ও ওপিয়ামের মত দৈনিক কর্মের আলোচনাও হাইওসিয়েমাসে দেখা যায়। কিন্তু হাইওসিয়েমাসের অশ্লীলতা বা কামোন্মাদ ভাব ব্রাইওনিয়াতেও নাই, ওপিয়ামেও নাই। হাইওসিয়েমাস শীতকাতর, ব্রাইওনিয়া ও ওপিয়াম গরমকাতর। পিপাসা তিনটি ঔষধেই আছে বটে, কিন্তু হাইওসিয়েমাসে জলাতঙ্কও আছে। ব্রাইওনিয়া ও ওপিয়ামে জ্বর খুব বেশি, হাইওসিয়েমাসে জ্বর খুব কম। তবে ওপিয়ামে রোগী যেমন তাহার অভাব-অভিযোগ সম্বন্ধে কিছু বলিতে চাহে না হাইওসিয়েমাসেও তাহা আছে এবং আর্নিকার মত প্রলাপ কালেও সকল কথার সঠিক উত্তর দান করে।
নগ্নতা বা অশ্লীলতা ও হিংসা
হাইওসিয়েমাসের রোগী প্রায় সর্বদাই নগ্ন বা উলঙ্গ থাকিতে চায়, জননেন্দ্রিয়ের উপর কোনরূপ আবরণ রাখিতে চাহে না। সর্বদাই তাহা লইয়া নড়াচাড়া করিতে, অশ্লীল গান গাহিতে ও অশ্লীল কথা কহিতে থাকে। ব্যর্থ প্রেমিকের তরুণ উন্মাদরোগে এইরূপ লক্ষণ প্রকাশ পাইলে হাইওসিয়েমাস প্রায় বেশ উপকারে আসে। ভিরেট্রাম এবং স্ট্র্যামোনিয়ামেও আমরা এরূপ লক্ষণ দেখিতে পাই। কিন্তু ভিরেট্রামে জিনিসপত্র ভাঙ্গিয়া ফেলা, ছিঁড়িয়া ফেলা খুব বেশি এবং ট্র্যামোনিয়ামে অনুনয় করা, অনুতাপ করা খুব বেশি। ভালবাসা সংক্রান্ত ব্যাপারে ঈর্ষা বা সন্দেহজনিত উন্মাদ, হাইওসিয়েমাস ও ল্যাকেসিসে
সন্ধিগ্ধতা (সন্দেহযুক্ত) ও জলাতঙ্ক।
হাইওসিয়েমাসের রোগী সর্বদাই ভয় করিতে থাকে যে লোকে তাহাকে বিষ প্রয়োগ করিয়া হত্যা করিবার চেষ্টা করিতেছে। কখনও বা মনে করে সে তাহার বাড়িতে নাই, তাই বাড়ি যাইতে চাহে। কখনও বা তন্দ্রাচ্ছন্নভাবে পড়িয়া আপন মনে দৈনিক কর্মের আলোচনা করিতে থাকে। ক্রমে দুর্গন্ধ উদরাময় দেখা দেয়, রক্তভেদও হইতে থাকে। রোগী প্রায় সর্বদাই তন্দ্রাচ্ছন্নভাবে পড়িয়া বিছানা খুঁটিতে থাকে, নিম্ন চোয়াল ঝুলিয়া পড়ে, বালিশ হইতে মাথা গড়াইয়া পড়ে, ডাকিলে কখনও সাড়া পাওয়া যায়, কখনও পাওয়া যায় না, কখনও বা উত্তর দিতে দিতেই তন্দ্রাচ্ছন্ন হইয়া পড়ে। আর্নিকা ও ব্যাপটিসিয়ার এরূপ লক্ষণ আছে বটে কিন্তু অশ্লীলতা বা কামোন্মাদ ভাব তাহাদের মধ্যে নাই।
প্রবল পিপাসা কিন্তু ক্ষণে ক্ষণে একটু করিয়া জলপান করে। জলাতঙ্কও খুব বেশি। জল দেখিলেই সে ভয়ে শিহরিয়া ওঠে। মুখ শুকাইয়া কাঠ হইয়া যায়, জিহবা শুকাইয়া শক্ত চামড়ার মত হইয়া যায়, তথাপি সে জল খাইতে চাহে না, জলের নাম শুনিলেও সে ভয় পাইতে থাকে । অবশ্য ট্র্যামোনিয়াম এবং বেলেডোনাতে ইহা খুব বেশি।
সংজ্ঞাশূন্য আক্ষেপ।
তন্দ্রাচ্ছন্নভাব হাইওসিয়েমাসের যেমন একটি বিশিষ্ট কথা, আক্ষেপও তাহার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আক্ষেপ-সর্বাঙ্গীণ আক্ষেপ বা অঙ্গবিশেষের আক্ষেপ। মানসিক উত্তেজনাবশত আক্ষেপ, দাঁত উঠিবার সময় আক্ষেপ, ঋতুকালীন আক্ষেপ, প্রসবের পূর্বে বা পরে আক্ষেপ, গর্ভাবস্থায় আক্ষেপ, কৃমিজনিত আক্ষেপ, মৃগীজনিত আক্ষেপ, সংজ্ঞাহীন অবস্থায় আক্ষেপ বা আক্ষেপের সহিত সংজ্ঞাশূন্যতা। আক্ষেপ আরও অনেক ঔষধে আছে, বেলেডোনাতে আছে; ট্র্যামোনিয়ামেও আছে ; কিন্তু সংজ্ঞাশূন্য আক্ষেপ হাইওসিয়েমাসেরই বৈশিষ্ট্য। ট্র্যামোনিয়ামের রোগী সংজ্ঞাশূন্য হইয়া পড়ে না -আক্ষেপ কালেও তাহার জ্ঞান থাকে হাইওসিয়েমাস একেবারে জ্ঞানহীন হইয়া পড়ে। কিন্তু যখন সে তন্দ্রাচ্ছন্নভাবে পড়িয়া থাকে তখন লক্ষ্য করিলে দেখা যাইবে তাহার দেহের স্থানে স্থানে মাংসপেশী থাকিয়া থাকিয়া নাচিয়া উঠিতেছে, চক্ষুগোলক ঘূর্ণায়মান।
টাইফয়েডের সহিত নিউমোনিয়া; রক্ত-কাশ। হাইড্রোসেফালাস। হাইওসিয়েমাস অত্যন্ত শীতকাতর। কিন্তু কখনও কখনও গাত্রাবরণ খুলিয়া ফেলে, তবে ইহা গরমবোধ হইবার জন্য নহে ইহা তাহার মানসিক ব্যাপার।
রাত্রে বৃদ্ধি, শুইলে বৃদ্ধি। মৃগীজনিত আক্ষেপ রাত্রে বৃদ্ধি পায়। আহারের পর বৃদ্ধি পায়। কাশি শুইলে এত বৃদ্ধি পায় যে, শুইয়া থাকা অসম্ভব হইয়া পড়ে, উঠিয়া বসিলে নিবৃত্তি।
শিশুরা আহারের পর হঠাৎ বমি করিয়া অজ্ঞান হইয়া পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে আক্ষেপ দেখা দেয়।
গর্ভাবস্থায় আক্ষেপ বা প্রসবকালীন আক্ষেপ। সর্বাঙ্গ বাকিয়া যাইতে থাকে বা কোন একটি অঙ্গের মাংসপেশী কাঁপিয়া নাচিয়া উঠিতে থাকে, চক্ষু ঘুরিতে থাকে। তন্দ্রাচ্ছন্নভাব বা অনিদ্রা নাসিকাধ্বনি সহ শ্বাস-প্রশ্বাস। প্রস্রাব করিবার ইচ্ছা থাকে না। হাইড্রোসেফালাস বা মস্তিষ্কে জল-জমা (হেলেবোৱাস)। স্পাইন্যাল মেনেঞ্জাইটিস। এক্লাম্পসিয়া বা প্রসবকালীন আক্ষেপে হাইওসিয়েমাস একটি চমৎকার ঔষধ।
ঋতুকালে আক্ষেপ ; ঋতুকালে প্রলাপ। পেটের মধ্যে অতিরিক্ত বায়ুসঞ্চার ; পেট অত্যন্ত স্পর্শকাতর (এপিস)।
চক্ষু ঘুরিতে থাকে, দৃষ্টি টেরা হইয়া যায়, নত দৃষ্টিতে চাহিয়া থাকে কিম্বা একদৃষ্টে তাকাইয়া থাকে। মল-মূত্র অসাড়ে নির্গত হইতে থাকে। গর্ভাবস্থায় উদরাময়। প্রসবের পর উদরাময়। কোষ্ঠবদ্ধতা। সূত্রাবরোধ।
তন্দ্রাচ্ছন্নভাবে পড়িয়া থাকিয়া নানাবিধ মুখভঙ্গী বা অঙ্গভঙ্গী করিতে থাকে। নিজের আঙ্গুলগুলি লইয়া খেলা করিতে থাকে, অত্যন্ত অস্থির। মারিতে চায়, কামড়াইতে চায়, বিছানা হইতে পলায়ন করিতে চায়।
হাতের আঙ্গুলগুলি লইয়া খেলা করিতে থাকে। হাসিতে থাকে। ধর্মভাব ; কামভাব_সর্বদা উলঙ্গ থাকিতে চায়। উন্মাদ অবস্থায় ক্ষণে হাসে, ক্ষণে কাঁদে, আপন মনে কত কি বলিতে থাকে, কত কি দেখিতে থাকে (স্ট্র্যামোনিয়াম)। বলে যে সে বিবাহের জন্য প্রস্তুত হইতেছে। ক্রমাগত গালাগালি করিতে থাকে।
বিছানা খুঁটিতে থাকে ; নিম্ন চোয়াল ঝুলিয়া পড়ে, বালিশ হইতে মাথা গড়াইয়া পড়ে।
প্রবল পিপাসা, ক্ষণে ক্ষণে অল্প জলপান ; জলাতঙ্ক।
আক্ষেপ, আক্ষেপকালে সংজ্ঞাশূন্যতা, মুখের মাংসপেশী ক্ষণে ক্ষণে নাচিয়া উঠিতে থাকে। ঘাড় বাঁকিয়া যায় একদিকে। আক্ষেপের পর পক্ষাঘাত।
তন্দ্রাচ্ছন্ন প্রলাপ ; বিছানার উপর বসিয়া দোল খাইতে থাকে । মানস চক্ষে নানাবিধ দৃশ্য দর্শন বা কাল্পনিক দৃশ্যকে সত্য মনে করিয়া নানাবিধ অঙ্গভঙ্গী বা কথাবার্তা, মৃত ব্যক্তির সহিত কথাবার্তা। নিজের আঙ্গুলগুলি লইয়া খেলা করিতে থাকে। মল ও মূত্রের কথা বলিতে থাকে।
মনে করে সে তাহার বাড়িতে নাই, মনে করে লোকে তাহাকে বিষ খাওয়াইয়া মারিয়া ফেলিবে। প্রলাপ কালে দৈনিক কর্মের আলোচনা। কাজকর্ম বা ব্যবসা-বাণিজ্যের বিপর্যয়বশত উন্মাদ।
রাত্রে বৃদ্ধি, ঠাণ্ডায় বৃদ্ধি, আহারের পর বৃদ্ধি, শুইয়া থাকিলে বৃদ্ধি, ভয় পাইয়া বাকরোধ, মানসিক উত্তেজনাবশত অনিদ্ৰা (নাক্স)।
সদৃশ ঔষধাবলী – (উন্মাদ)
চর্মরোগ চাপা পড়িয়া উন্মাদ - কস্টিকাম, ট্র্যামোনিয়াম, সালফার, জিঙ্কাম।
প্রসবের পর উন্যাদ - অরাম, বেলেডোনা, ক্যাক্ষর, সিমিসিগা, কুপ্রাম, লাইকোপোডিয়াম, প্ল্যাটিনা, পালসেটিলা, ট্র্যামোনিয়াম, ভিরেট্রাম।
ব্যর্থ প্রেমজনিত উন্মাদ - ইগ্নেসিয়া, নেট্রাম-মি, অ্যাসিড ফস ল্যাকেসিস (ব্যর্থ প্রেম দেখ)।
ঈর্ষাজনিত উন্মাদ - ল্যাকেসিস।
অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের পর - বিউফো, ককুলাস।
কামোন্মত্ততাবশত - ব্যারাইটা মিউর।
অতিরিক্ত রক্তস্রাবের পর - চায়না ।
ব্যবসা-বাণিজ্য বা বৈষয়িক দুশ্চিন্তাজনিত উন্মাদ - নাক্স ভমিকা।লাইসিন বা হাইড্রোফোবিনামও উনাদের একটি বিশিষ্ট ঔষধ।
অনিদ্রা, জলাতঙ্ক, কামোন্মত্ততা, কামড়াইবার বা মারামারি করিবার ইচ্ছা ইহাতে খুব প্রবল। রোগী লবণ-প্রিয় হইয়া ওঠে।
ঋতুবন্ধ হইয়া উন্মাদ - ইগ্নে, পালস।
