Organon of Medicine
By Dr. Samuel Hahnemann
Aphorism 1
The physician’s high and ONLY mission is to restore the sick to health, to cure, as it is termed.
চিকিৎসকের প্রধান এবং একমাত্র লক্ষ্য হলো অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ করে তোলা, যা সাধারণভাবে আরোগ্য বলে অভিহিত হয় 1
Aphorism 2
The highest ideal of cure is rapid, gentle and permanent restoration of the health, or removal and annihilation of the disease in its whole extent, in the shortest, most reliable, and most harmless way, on easily comprehensible principles.
চিকিৎসার সর্বোচ্চ আদর্শ হলো দ্রুত, সহজবোধ্য ও স্থায়ীভাবে স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করা, অথবা রোগকে সম্পূর্ণ ভাবে নির্মূল ও বিনাশ করা, সবচেয়ে সংক্ষিপ্ততম, নির্ভরযোগ্য এবং নির্দোষ পদ্ধতিতে, যা সহজে বোধগম্য নীতির উপর ভিত্তি করে।
Aphorism 3
If the physician clearly perceives what is to be cured in diseases, that is to say, in every individual case of disease (KNOWLEDGE OF DISEASE, INDICATION), if he clearly perceives what is curative in medicines, that is to say, in each individual medicine (KNOWLEDGE OF MEDICINAL POWERS), and if he knows how to adapt, according to clearly defined principles, what is curative in medicines to what he has discovered to be undoubtedly morbid in the patient, so that the recovery must ensue—to adapt it, as well in respect to the suitability of the medicine most appropriate according to its mode of action to the case before him (CHOICE OF THE REMEDY, THE MEDICINEINDICATED), as also in respect to the exact mode of preparation and quantity of it required (proper DOSE), and the proper period for repeating the dose;—if, finally, he knows the obstacles to recovery in each case and is aware how to remove them, so that the restoration may be permanent: THEN HE UNDERSTANDS HOW TO TREATJUDICIOUSLY AND RATIONALLY, AND HE IS A TRUE PRACTIONER OF THE HEALING ART.
যদি একজন চিকিৎসক স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারেন যে, রোগে যা নিরাময়যোগ্য, অর্থাৎ প্রতিটি পৃথক রোগের ক্ষেত্রে যা নিরাময় করতে হবে (রোগ সম্পর্কে জ্ঞান, লক্ষণ নির্ধারণ); যদি তিনি স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারেন যে ঔষধসমূহে কী আরোগ্য ক্ষমতা রয়েছে, অর্থাৎ, প্রতিটি পৃথক ঔষধের ক্ষেত্রে(ওষুধের কার্যক্ষমতা সম্পর্কিত জ্ঞান); এবং যদি তিনি সুস্পষ্ট নীতির ভিত্তিতে, রোগীর মধ্যে যা নিশ্চিতভাবে রোগজনিত তা নিরাময়ের জন্য উপযুক্ত ঔষধের নির্বাচন করতে পারেন, যাতে আরোগ্য ঘটে—এই ঔষধের নির্বাচন যেন ওষুধের ক্রিয়াশীল প্রকৃতি অনুযায়ী নির্ধারিত রোগের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হয় (উপযুক্ত ওষুধ নির্বাচন, নির্ধারিত ওষুধ), এবং ওষুধ তৈরির যথাযথ পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় পরিমাণ (সঠিক মাত্রা) এবং পুনরাবৃত্তির সময়কাল নির্ধারণেও সচেতন হন; যদি তিনি প্রতিটি ক্ষেত্রে আরোগ্যের পথে বাধাগুলো জানেন এবং সেগুলো কীভাবে দূর করতে হবে তা বুঝতে পারেন, যাতে আরোগ্যে স্থায়ী হয়।
তবে তিনি বিচক্ষণ এবং যৌক্তিকভাবে চিকিৎসা করতে জানেন এবং তিনি সত্যিকারে একজন দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে পরিগণিত হন।
Aphorism 4
He is likewise a preserver of health if he knows the things that derange health and cause disease, and how to remove them from persons in health.
তিনি স্বাস্থ্য সংরক্ষণেরও একজন অভিভাবকও বটে, যদি তিনি জানেন যে কী কী বিষয় স্বাস্থ্যের বিঘ্ন ঘটায় এবং রোগ সৃষ্টি করে, এবং কীভাবে সেই বিষয়গুলোকে সুস্থ মানুষের থেকে দূরে রাখা যায়।
Aphorism 5
Useful to the physician in assisting him to cure are the particulars of the most probable EXCITING CAUSE of the acute disease, as also the most significant points in the whole history of the chronic disease, to enable him to discover its FUNDAMENTAL CAUSE, which is generally due to a chronic miasm. In these investigations, the ascertainable physical constitution of the patient (especially when the disease is chronic), his moral and intellectual character, his occupation, mode of living and habits, his social and domestic relations, his age, sexual function, etc., are to be taken into consideration.
একজন চিকিৎসকের জন্য রোগ নিরাময়ে সহায়ক হতে পারে রোগের তীব্র অবস্থার সম্ভাব্য উদ্দীপক কারণ সম্পর্কে জানা। একইভাবে, ক্রনিক রোগের পুরো ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো জানা প্রয়োজন, যাতে তিনি তার মূল কারণ আবিষ্কার করতে পারেন, যা সাধারণত একটি ক্রনিক মায়াজম থেকে উদ্ভূত।?
এই অনুসন্ধানে রোগীর শারীরিক গঠন (বিশেষত যখন রোগটি ক্রনিক), তার নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চরিত্র, তার পেশা, জীবনযাপন ও অভ্যাস, সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক, বয়স, যৌন কার্যক্রম ইত্যাদি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
Aphorism 6
The unprejudiced observer—well aware of the futility of transcendental speculations which can receive no confirmation from experience—be his powers of penetration ever so great, takes note of nothing in every individual disease, except the changes in the health of the body and of the mind (MORBID PHENOMENA, ACCIDENTS,SYMPTOMS) which can be perceived externally by means of the senses; that is to say, he notices only the deviations from the former healthy state of the now diseased individual, which are felt by the patient himself, remarked by those around him and observed by the physician. All these perceptible signs represent the disease in its whole extent, that is, together they form the true and only conceivable portrait of the disease.2
সেই নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক—যিনি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো অতীন্দ্রিয় ধারণাকে গুরুত্ব দেন না—তার অন্তর্দৃষ্টির ক্ষমতা যতই শক্তিশালী হোক না কেন—তিনি প্রতিটি পৃথক রোগের ক্ষেত্রে শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যগত পরিবর্তনগুলিকেই (রোগজনিত লক্ষণসমূহ, আকস্মিকতা এবং উপসর্গ) গ্রহণ করেন, যা ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে বাহ্যিকভাবে অনুভবযোগ্য। অর্থাৎ, তিনি শুধুমাত্র সেই বিচ্যুতিগুলিকেই লক্ষ্য করেন, যা আগে সুস্থ অবস্থায় থাকা ব্যক্তির বর্তমান অসুস্থ অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন। এই লক্ষণগুলি রোগীর নিজের অনুভব, আশেপাশের মানুষের পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এ সমস্ত উপলব্ধ লক্ষণসমূহ একত্রে রোগের সম্পূর্ণ রূপ উপস্থাপন করে, অর্থাৎ এগুলো মিলেই রোগের প্রকৃত এবং একমাত্র বোধগম্য প্রতিচ্ছবি তৈরি করে।
Aphorism 7
Now, as in a disease, from which no manifest exciting or maintaining cause (CAUSA OCCASIONALIS) has to be removed, 3we can perceive nothing but the morbid symptoms, it must (regard being had to the possibility of a miasm, and attention paid to the accessory circumstances, §5) be the symptoms alone by which the disease demands and points to the remedy suited to relieve it— and, moreover, the totality of these its symptoms, OF THIS OUTWARDLY REFLECTED PICTURE OF THE INTERNALESSENCE OF THE DISEASE, THAT IS, OF THE AFFECTION OF THE VITAL FORCE, must be the principal, or the sole means, whereby the disease can make known what remedy it requires—the only thing that can determine the choice of the most appropriate remedy—and thus, in a word, the totality 4of the symptoms must be the principal, indeed the only thing the physician has to take note of in every case of disease and to REMOVE by means of his art, in order that the disease shall be cured and transformed into health.
এখন, এমন কোনো রোগে, যেখানে কোনো সুস্পষ্ট উদ্দীপক বা বজায় রাখা কারণ ( Causa Occasionalis ) দূর করার প্রয়োজন নেই, আমরা অসুস্থতার উপসর্গগুলো ছাড়া আর কিছুই লক্ষ্য করতে পারি না। সেক্ষেত্রে ( মায়াজমের সম্ভাবনা এবং §৫-এ উল্লেখিত পারিপার্শ্বিক কারণগুলো বিবেচনায় রেখে ) শুধুমাত্র উপসর্গগুলোর মাধ্যমেই রোগটি তার জন্য উপযুক্ত ওষুধ নির্দেশ করে। আরও স্পষ্ট করে বললে, রোগের উপসর্গগুলোর সামগ্রিকতা—এই বাহ্যিকভাবে প্রতিফলিত চিত্র, যা রোগের অভ্যন্তরীণ সারমর্ম (প্রাণশক্তির অসুস্থতা) প্রকাশ করে—এই প্রধান এবং একমাত্র মাধ্যম, যার মাধ্যমে রোগ জানাতে পারে যে তার জন্য কী ওষুধ প্রয়োজন। এটি এমন একমাত্র উপায়, যা সবচেয়ে উপযুক্ত ওষুধের নির্বাচন নির্ধারণ করতে পারে। সুতরাং, উপসর্গগুলোর সামগ্রিকতা চিকিৎসকের জন্য প্রতিটি রোগের ক্ষেত্রে প্রধান, এবং প্রকৃতপক্ষে একমাত্র, বিষয় যা তিনি লক্ষ্য করবেন এবং তাঁর দক্ষতার মাধ্যমে তা দূর করবেন, যাতে রোগ নিরাময় হয় এবং স্বাস্থ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
Aphorism 8
It is not conceivable, nor can it be proved by any experience in the world, that, after removal of all the symptoms of the disease and of the entire collection of the perceptible phenomena, there should or could remain anything else besides health, or that the morbid alteration in the interior could remain uneradicated. 5
এটি বিশ্বাসযুগ্য না, এবং বিশ্বের কোনো অভিজ্ঞতায় এটি প্রমাণিতও নয় যে, রোগের সমস্ত উপসর্গ এবং দৃশ্যমান লক্ষণগুলির সম্পূর্ণ অপসারণ করার পর, রোগের বোধগম্য যে সকল লক্ষণ চিকিৎসক সংগ্রহ করতে পারে তার সম্পূর্ণভাবে দূর করার পর রোগীর সুস্বাস্থ্যের অন্তরালে আর কিছু থাকতে পারে বা অভ্যন্তরীণ রোগজনিত পরিবর্তন নির্মূল না হয়ে থেকে যেতে পারে।
পদটীকা
- চিকিৎসকের লক্ষ্য মোটেও এমন কোনো তথাকথিত পদ্ধতি গঠন করা নয়, যা জীবনপ্রক্রিয়ার অভ্যন্তরীণ স্বভাব এবং দেহের অদৃশ্য অভ্যন্তরে রোগ কিভাবে সৃষ্টি হয় সে বিষয়ে শূন্য ধারণা ও অনুমানের সমন্বয়ে তৈরি হয় (যেখানে বহু চিকিৎসক এখন পর্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষায় তাদের প্রতিভা ও সময় অপচয় করেছেন)। আবার এটি এমন নয় যে রোগের লক্ষণ ও তাদের নিকটতম কারণ সম্পর্কে অসংখ্য ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা (যা চিরকালই গোপন থাকবে), যা জটিল শব্দ ও অতি জাকজমকপূর্ণ পর্যবেক্ষণে মিশিয়ে ফেলে, অথচ রোগীরা সুস্থতার জন্য বৃথা অপেক্ষায় থেকে যায়। আমরা ইতোমধ্যেই এ ধরনের অসংখ্য শিক্ষিত কাল্পনিক চিন্তাধারার সঙ্গে পরিচিত, যেগুলোকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতবাদ বলা হয় এবং যেগুলোর প্রচারের জন্য বিশেষ অধ্যাপনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন সময় এসেছে, যারা নিজেদের চিকিৎসক বলে দাবি করেন, তারা কষ্টে থাকা মানবতাকে অর্থহীন কথায় বিভ্রান্ত করা বন্ধ করুন এবং কার্যত রোগীদের সুস্থ ও আরোগ্য প্রদান শুরু করুন।...↩
-
আমি বুঝতে পারি না, রোগীর শয্যাপাশে দাঁড়িয়ে কিভাবে কেউ কল্পনা করতে পারে যে রোগ নিরাময়ের জন্য যা খুঁজে বের করতে হবে তা মানব দেহের লুকায়িত এবং অজানা কারণটি অভ্যন্তরে পাওয়া যাবে; কিংবা কিভাবে কেউ লক্ষণগুলোর প্রতি সর্বোচ্চ মনোযোগ না দিয়ে এবং সেগুলোকে যথাযথ অনুসরণ না করে রোগ নিরাময়ের চেষ্টা করতে পারে। আমি বুঝতে পারি না, কিভাবে কেউ এতটা অযৌক্তিক এবং আত্মঅহঙ্কারী হতে পারে, যে দেহের গভীরে কী পরিবর্তন ঘটেছে তা বোঝার চেষ্টা করে, অথচ লক্ষণগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেয় না; কিংবা কিভাবে কেউ এমন ওষুধ ব্যবহার করে শরীরের শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপন করার চেষ্টা করতে পারে, যেগুলোর সম্পর্কে সে কিছুই জানে না, এবং এই পদ্ধতিকে একমাত্র মৌলিক এবং যৌক্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি বলে অভিহিত করে।
রোগের যে সমস্ত লক্ষণ আমাদের ইন্দ্রিয় দ্বারা উপলব্ধ হয়, সেগুলোই কি চিকিৎসকের চোখে প্রকৃত রোগ নয়? তিনি তো কখনও সেই আধ্যাত্মিক উপাদান বা জীবনীশক্তিকে দেখতে পাবেন না, যা রোগ সৃষ্টি করে। তাকে এটি দেখতেও হবে না; তাকে শুধু এর ক্ষতিকর প্রভাবগুলো বোঝা প্রয়োজন, যাতে তিনি রোগ নিরাময়ে সক্ষম হন।
পুরনো চিকিৎসাবিজ্ঞান কী খুঁজতে চায় দেহের অজানা অভ্যন্তরে, কীভাবে তারা এতটা অহঙ্কারী এবং হাস্যকরভাবে দাবি করতে পারেন যে, লক্ষণগুলোর প্রতি তেমন মনোযোগ না দিয়ে, তারা দেহের অদৃশ্য অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া পরিবর্তনগুলো আবিষ্কার করতে সক্ষম এবং (অজানা) ওষুধের সাহায্যে সেগুলো ঠিক করে তুলতে পারেন। যদি তারা রোগের সহজবোধ্য লক্ষণগুলোকে—যা স্পষ্ট ভাষায় আমাদের সামনে কথা বলে, সেগুলোকে অহঙ্কারীভাবে প্রত্যাখ্যান ও উপেক্ষা ও ঘৃণা করে? তারা রোগে কী নিরাময় করতে চায়, যদি তা এই লক্ষণগুলো ছাড়া কিছু না হয়?↩ - এটি বলার প্রয়োজন নেই যে প্রতিটি বুদ্ধিমান চিকিৎসক প্রথমে এই কারণগুলো দূর করবেন, যেখানে সেগুলো বিদ্যমান থাকে; এর ফলে সাধারণত অসুস্থতাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দূর হয়ে যায়। তিনি রোগীর ঘর থেকে তীব্র গন্ধযুক্ত ফুল সরিয়ে দেবেন, যা অজ্ঞানতা এবং হিস্টিরিয়ার লক্ষণ সৃষ্টি করেছে; কর্নিয়া থেকে সেই বহিরাগত বস্তুটি সরিয়ে দেবেন, যা চোখে প্রদাহ সৃষ্টি করে; অতিরিক্ত শক্তভাবে বাঁধা ক্ষতস্থানের ব্যান্ডেজ ঢিলা করে দেবেন, যা পচন ধরার ঝুঁকি তৈরি করে, এবং একটি আরও উপযুক্ত ব্যান্ডেজ প্রয়োগ করবেন; রক্তপাত বন্ধ করতে আঘাতপ্রাপ্ত ধমনিটিকে উন্মুক্ত করে তাতে লিগেচার (বাঁধন) দেবেন; বেলেডোনা বেরি অন্য কোনো বিষাক্ত পদার্থ গিলে ফেলার ক্ষেত্রে বমি করিয়ে বের করার ব্যবস্থা করবেন; শরীরের বিভিন্ন ছিদ্রে (নাক, খাদ্যনালী, কান, মূত্রনালী, মলদ্বার, যোনি) কোনো বস্তু আটকে থাকালে তা সরাবেন; মূত্রথলির পাথর থাকলে তা চূর্ণ করে দিতে হবে; এবং নবজাতকের মলদ্বার খুলা না থাকলে বন্ধ মলদ্বার খুলে দেবেন।↩
-
সকল যুগেই, পুরাতন পন্থী অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতির চিকিৎসকরা, রোগ উপশম করার অন্য কোনো পদ্ধতি না জানার কারণে, রোগে উপস্থিত অসংখ্য লক্ষণের মধ্যে একটি মাত্র লক্ষণকে লক্ষ্য করে, সেটিকে ওষুধ দিয়ে দমন বা উপশম করার চেষ্টা করেছেন—একটি একপাক্ষিক পদ্ধতি, যা লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা (সিম্পটোমেটিক ট্রিটমেন্ট) নামে পরিচিত এবং যা ন্যায্যভাবেই সর্বজনীন অবজ্ঞার কারণ হয়েছে। কারণ, এ পদ্ধতিতে শুধু যে কোনো উপকার হয়নি তা নয়, বরং অনেক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
রোগে উপস্থিত একটি মাত্র লক্ষণ পুরো রোগকে নির্দেশ করে না, যেমন একটি মাত্র পা পুরো মানুষকে নির্দেশ করে না।
এই পদ্ধতি আরও বেশি নিন্দনীয় ছিল, কারণ ঐ একটি লক্ষণকে শুধুমাত্র বিরোধী ওষুধ দিয়ে (যেমন :ডায়রিয়ার জন্য কুষ্ঠরোধক ঔষধ, কোষ্ঠকাঠিন্যতায় জোলাপকরক ঔষধ, জ্বরে ঘর্মকারক ঔষধ ইত্যাদি) চিকিৎসা করা হতো। এর ফলে সামান্য উপশমের পরে, লক্ষণটি আরও খারাপ হয়ে উঠত।↩ -
যখন একজন প্রকৃত চিকিৎসক কোনো রোগীকে তার রোগ থেকে এমনভাবে নিরাময় করেন যে রোগের কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ অবশিষ্ট থাকে না, এবং সমস্ত স্বাস্থ্যলক্ষণ স্থায়ীভাবে ফিরে আসে, তখন কীভাবে কেউ বলতে পারে যে ঐ ব্যক্তির পুরো শারীরিক রোগ এখনও তার অভ্যন্তরে রয়ে গেছে? তবুও পুরনো চিকিৎসা পদ্ধতির প্রধান হুফেল্যান্ড নিম্নলিখিত কথায় উল্লেখ করেছেন: “হোমিওপ্যাথি লক্ষণগুলো দূর করতে পারে, কিন্তু রোগ থেকে যায়।” (Vide HOMOOPATHIE, p. 27, I, 19.)
তিনি এই মতামত আংশিকভাবে ব্যক্ত করেন হোমিওপ্যাথির অগ্রগতিতে বিরক্ত হয়ে, যা মানবজাতির কল্যাণে কাজ করছে, অন্যদিকে রোগ সম্পর্কে তার ধারণা সম্পূর্ণ বস্তুবাদী। অসুস্থ জীবনীশক্তি কর্তৃক সুক্ষভাবে পরিবর্তিত দৈহিক অবস্থাকে সে এখনো রোগ হিসেবে বিবেচনা করতে পারেনি বরং সে ব্যাধিকে জড় বস্তু জাতীয় কিছু মনে করে সম্পূর্ণ আরোগ্যের পরও তা দেহ অভ্যান্তরে কোন স্থানে লুকিয়ে থাকে এবং এর খেয়াল খুশি মত যে কোন সময় স্বরূপে আবির্ভূত হয়
পুরনো প্যাথোলজির এমন ভয়ঙ্কর অন্ধত্ব এখনো রয়ে গেছে! তাই আশ্চর্যের কিছু নেই যে এটি কেবলমাত্র এমন একটি চিকিৎসা পদ্ধতির জন্ম দিতে পারে যা শুধুমাত্র হতভাগ্য রোগীকে নিঃশেষ করার প্রচেষ্টায় ব্যস্ত থাকে। ↩
